Tuesday, February 25, 2014

``আমার বাবা আমাকে ধর্ষণ করেছে, ধর্ষক বাবার কঠোর শাস্তি চাই``

পর পর দু`বার গণ ধর্ষিত হওয়ার পর নিজের বাবার হাতেই ফের ধর্ষণের শিকার হল হরিয়াণার এক স্কুলছাত্রী। দিল্লি থেকে এক ঘণ্টারও কম দূরত্বে অবস্থিত সোনেপাতের এই কিশোরী পুলিসকে তার উপর ঘটে যাওয়া নৃশংস এই অত্যাচারের কথা জানায়। অভিযোগ এতই ভয়াবহ যে শুনলে কেঁপে উঠবে যে কোনো মানুষের মন। নিগৃহীতা কিশোরীর বয়ানে জানা গেছে তার গ্রামেরই একদল তরুণ গত দু`মাসে দু`বার ধর্ষণ করে তাকে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। মেয়েটিকে ধর্ষণ করার অভিযোগে অভিযুক্তরা সবাই গ্রেফতার হওয়ার পরেও আতঙ্ক শেষ হল না। ঘরের চৌহদ্দীর মধ্যেই তার উপর নেমে এলো যৌন নির্যাতনের অভিশাপ। দিনের পর দিন নিজের বাবার বিকৃত যৌন লালসার শিকার হতে হল তাকে। অভিযোগ, ওই কিশোরীর বাবা নিজের মেয়েকেই ধর্ষণ করেছে প্রতিনিয়ত। মেয়েটি তার বয়ানে জানিয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাবা তাকে ধর্ষণ করে। ``বাবা বলেছিল কারোর কাছে মুখ খুললেই আমাকে খুন করবে। আমি পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু আমার বাবা আমাকে যৌন পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য করছে। দয়া করে আমাকে বাঁচান।`` পুলিসের কাছে করুণ আর্তি করেছে অসহায় ওই কিশোরী। স্থানীয় একটি এনজিও মেয়েটিকে পুলিসের কাছে নিয়ে এলে তার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। মেয়েটি জানিয়েছে সে আর বাড়ি ফিরে যেতে চায় না। নিগৃহীতা কিশোরীর বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ``আমার বাবা আমাকে ধর্ষণ করেছে। আমি আর বাবার সঙ্গে থাকতে চাই না। ওই লোকটার শাস্তি হওয়া উচিৎ। আমি বিচার চাই।`` পুলিসকে খোলা চিঠতে দাবি জানিয়েছে ওই স্কুল ছাত্রী। মেয়েটি আপাতত ওই এনজিও-টির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মেয়েটির মা জানিয়েছেন তাঁর বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে এই নৃশংস ঘটনার কথা আগে থেকে কিছুই টের পাননি। তিনি জানিয়েছেন তাঁর মেয়ে এই বিষয়ে তাঁকে আগে কিছুই জানায়নি। এখনই মেয়ের মুখ থেকে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানতে পেরেছেন তিনি। স্বামীর যথোপযুক্ত কঠোরতম শাস্তির দাবি করেছেন ওই ভদ্রমহিলাও। 

জামায়াতকর্মীর কাণ্ড...

তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন এক জামায়াতকর্মী। পরে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারী সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গাড্ডিমারীতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জামায়াতকর্মীর নাম জাবের আলী (৩০)। তিনি সিঙ্গিমারীর দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের মতিয়ার রহমান ওরফে হুলুর ছেলে। ঘটনার পর ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাতীবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন জানায়, সকালে জামায়াতকর্মী জবের আলী তার প্রতিবেশির তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রীকে ফুসলিয়ে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার সময় ছাত্রীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে গেলে জাবের আলী পালিয়ে যান। পরে লোকজন ছাত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশীরা জানান, জামায়াত নেতাদের সঙ্গে জাবের আলীর ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। তাদের যে কোনো কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়। জাবের আলীকে জামায়াতের একজন সক্রিয়কর্মী হিসেবে দাবি করলেও এ বিষয়ে নাম প্রকাশে রাজি হননি কেউ। হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তাপস সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ধর্ষককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

ব্যাংকে জমা দুই প্রবাসীর ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ

বেসরকারি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিলেট শাখায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশির কষ্টে জমানো ৯০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে লন্ডন প্রবাসী ওই দুই গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাব জামানত হিসেবে দেখিয়ে অন্য গ্রাহকের নামে ঋণ দেওয়া হয়। সেই ঋণ এক পর্যায়ে খেলাপি হয়ে পড়লে দুই প্রবাসীর জমানো টাকা থেকেই তা আদায় করা হয়েছে। লন্ডন থেকে গ্রাহকের অভিযোগের পর প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করে ব্যাংক শাখা। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিশেষ পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ব্যাংক শেষ পর্যন্ত দায়ও স্বীকার করেছে। গ্রাহক এখনও তার টাকা ফেরত পাননি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএএম জাকারিয়া অদ্ভুত যুক্তি তুলে ধরে সমকালকে বলেন, এটি এক বছর আগের ঘটনা। এফডিআর জামানত রেখে সঞ্চয়কারীদের সম্মতির ভিত্তিতে ঋণ নেওয়ার প্রমাণ ব্যাংকের কাছে আছে। এখন তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কোনো কারণ নেই। এ ছাড়া এ বিষয়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা চলছে। এক গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা জামানত দেখিয়ে অন্য গ্রাহককে ঋণ দেওয়া ও অনিয়ম না হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন কেন জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিতে পারেননি।ব্যাংকে জমা দুই প্রবাসীর ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সম্প্রতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিলেট শাখা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের তথ্য মতে, শাহ আমীর আলী ও মুকিত নামে দু'জন লন্ডন প্রবাসী ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের সিলেট শাখায় বিশেষ সঞ্চয় প্রকল্প খোলেন। ছয় বছরে দ্বিগুণ মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয় প্রকল্পে আমীর আলী ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০ লাখ টাকা রাখেন। তার সঞ্চয়ের মেয়াদপূর্তি হয়েছে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তার পাওয়ারকথা ৪০ লাখ টাকা। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে একই প্রকল্পে ২৫ লাখ টাকা রাখেন মুকিত। তার সঞ্চয়ের মেয়াদপূর্তি হয়েছে এ বছরের জানুয়ারিতে। ব্যাংকের কাছে তার পাওনা ৫০ লাখ টাকা। মেয়াদ শেষে দু'জনের পৃথক সঞ্চয় হিসাবে টাকা জমা হওয়ার কথা। তারা অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স দেখেই হতবাক। দেখা যায়, অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে শাখা থেকে বিভিন্ন ছলচাতুরতার পর জানানো হয়, তারা জামানতকারী ছিলেন। এখন ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় তাদের জমানো সঞ্চয় থেকে তা সমন্বয় করা হয়েছে। অথচ এই ঋণের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে দেখা যায়, দুই অ্যাকাউন্টধারীকে না জানিয়ে তাদের সঞ্চয়ী হিসাব জামানত রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম হাদী ছাইফুলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিলমুন কনসোর্টিয়ামকে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। কিছু টাকা পরিশোধের পর সিলমুন কনসোর্টিয়াম খেলাপি হয়ে পড়ে। সিলমুন কনসোর্টিয়ামের কাছে এখন ব্যাংকের পাওনা রয়েছে ৮৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ওই দুই ব্যক্তির সঞ্চয় হিসাব জামানত দেখানোর ফলে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ তারা পাচ্ছেন না। পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যের সঞ্চয়ী হিসাব 'জামানত' হিসেবে দেখাতে হলে হিসাবধারীর লিখিত সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। শাখায় এ ধরনের একটি ডকুমেন্ট থাকলেও তা ভুয়া বলে পরিদর্শক দলের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। কেননা সম্মতিপত্রে যে তারিখে স্বাক্ষর রয়েছে সেই সময়ে ওই দুই সঞ্চয়কারী লন্ডনে ছিলেন। অ্যাকাউন্টের স্বাক্ষরের সঙ্গে সম্মতিপত্রের স্বাক্ষরের মিলও নেই। দু'জনের স্বাক্ষর জাল করে শাখা থেকে ভুুয়া সম্মতিপত্র তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে বরখাস্ত সে সময়ের শাখা ব্যবস্থাপক নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী ঋণগ্রহীতার সঙ্গে যোগসাজশ করে কৌশলে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তাকে সহযোগিতা করেছেন বর্তমানে বরিশাল শাখায় কর্মরত সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সৈয়দ মাহবুব-ই-এলাহী, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আকবর হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার সামসুল আলম চৌধুরী ও জুনিয়র অফিসার শওকত মাহমুদ চৌধুরী। সামসুল আলম চৌধুরী এখন ইউসিবিএলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও পাওনাদারের অর্থ পরিশোধে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংককে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঠানো চিঠিতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জানাতে বলা হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে ব্যাংক বলেছে, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়াজ আহমেদ চৌধুরীকে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আকবর হোসেন, সৈয়দ মাহবুব-ই-এলাহী, সামসুল আলম চৌধুরী ও শওকত মাহমুদ চৌধুরীর ইনক্রিমেন্টসহ বিভিন্ন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে অর্থঋণ আদালতে একটি মামলাও করা হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তিন মাস সময় প্রয়োজন। তবে তিন মাসের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করা হবে কি-না তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।